পুরাতন দাদ এর ঘরোয়া চিকিৎসা
দাদ দেখতে কেমন
দাদ কত প্রকার হতে পারে
১ ঃ টিনিয়া ক্যাপাইটিস দাদ - এই ধরনের দাদ এর সংক্রমণ সাধারণত মাথার ত্বকে লক্ষ্য করা যায়, আপনার মাথায় যদি চুলকানি গোল ফুসকুড়ি হয় তাহলে বুঝবেন এটা টিনিয়া ক্যাপাইটিস দাদ।
২ ঃ টিনিয়া কর্পোরিস - এটি সাধারণত বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই প্রকারের দাদ সাধারণত শরীরের বিভিন্ন অংশে গোল বৃত্তাকার আকারে লালচে এবং উপরিভাগে ফুসকুড়ি লক্ষ্য করা যায়। অসহ্য রকমের চুলকানি দুই রানের চিপায়, হাঁটুতে পিঠে, শরীরের বিভিন্ন অংশে হতে পারে এই দাদ।
৩ ঃ টিনিয়া বারবে - এই ধরনের দাদ সাধারণত মুখমণ্ডল অথবা দাড়ির আশেপাশে হতে পারে।
৪ ঃ টিনিয়া পেডিস - এই ধরনের দাদ সাধারণত পায়ের যে কোন জায়গায় হয়ে থাকে।
৫ ঃ টিনিয়া আনগুইয়াম - এ ধরনের দাদ নখের মধ্য়ে সংক্রমন সৃষ্টি করে থাকে।
পুরাতন দাদ এর ঘরোয়া চিকিৎসা এবং সহজ উপায়ে সমস্যা কমানোর নির্দেশিকা
দাদ কেন দীর্ঘদিন থাকে?
দাদ মূলত এক ধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন। কিছু কারণে এটি পুরোনো বা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যেতে পারে, যেমন:
- আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার না রাখা
- একই কাপড় বারবার ব্যবহার করা
- অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
- অসম্পূর্ণ চিকিৎসা গ্রহণ করা
- পরিবারের অন্য কারও কাছ থেকে পুনরায় সংক্রমিত হওয়া
পুরাতন দাদ এর ঘরোয়া চিকিৎসা করার আগে যা জানা জরুরি
ঘরোয়া উপায়গুলো সাধারণত ত্বক পরিষ্কার রাখা, চুলকানি কমানো এবং আক্রান্ত স্থান শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে। তবে এগুলোকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে দেখা উচিত।
১. আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন
দাদের জীবাণু আর্দ্র পরিবেশে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিদিন আক্রান্ত স্থান সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।অনেক ক্ষেত্রে পুরাতন দাদ এর ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে এই সাধারণ অভ্যাসই বেশ উপকার এনে দেয়।
২. ঢিলেঢালা সুতি কাপড় ব্যবহার করুন
টাইট পোশাক ঘাম বাড়ায় এবং সংক্রমণকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। সুতি কাপড় বাতাস চলাচল সহজ করে এবং ত্বককে শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে।
৩. নারকেল তেল ব্যবহার
নারকেল তেলে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। পরিষ্কার ত্বকে অল্প পরিমাণ নারকেল তেল লাগানো যেতে পারে।এটি পুরাতন দাদ এর ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে অনেকেই ব্যবহার করেন, যদিও এর কার্যকারিতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
৪. অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা ত্বককে শীতল অনুভূতি দেয় এবং চুলকানি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আক্রান্ত স্থানে বিশুদ্ধ অ্যালোভেরা জেল দিনে ২–৩ বার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আলাদা রাখুন
কোন কাজগুলো এড়িয়ে চলবেন?
- আক্রান্ত স্থান চুলকানো
- ভেজা কাপড় দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা
- অন্যের তোয়ালে ব্যবহার করা
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করা
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
- দাদ কয়েক মাস ধরে রয়েছে
- আক্রান্ত স্থান দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে
- তীব্র চুলকানি বা ব্যথা হচ্ছে
- পুঁজ বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে
- ঘরোয়া যত্নের পরও উন্নতি হচ্ছে না
ডাক্তারেরা সাধারণত যেসব মলম ও ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন
অ্যান্টিফাঙ্গাল মলম ও ক্রিম
দাদের প্রাথমিক ও মাঝারি পর্যায়ের চিকিৎসায় চিকিৎসক সাধারণত নিচের যেকোনো একটি অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন:
Clotrimazole 1% Cream
Terbinafine 1% Cream
Ketoconazole 2% Cream
Luliconazole 1% Cream
Sertaconazole 2% Cream
Miconazole 2% Cream
Eberconazole 1% Cream
Ciclopirox Olamine Cream
এই ধরনের ক্রিম সাধারণত আক্রান্ত স্থানে নিয়মিত ব্যবহার করতে বলা হয় এবং লক্ষণ কমে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহার চালিয়ে যেতে হয়।
মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ
যদি দাদ অনেক পুরোনো হয়, শরীরের বড় অংশে ছড়িয়ে পড়ে অথবা বারবার ফিরে আসে, তাহলে চিকিৎসক মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ দিতে পারেন। যেমন:
Terbinafine Tablet
Itraconazole Capsule
Fluconazole Tablet
Griseofulvin Tablet
এসব ওষুধ সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেবন করতে হয় এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়।
চুলকানি কমানোর ওষুধ
দাদের কারণে অতিরিক্ত চুলকানি হলে চিকিৎসক কখনও কখনও অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দিতে পারেন, যেমন:
Cetirizine
Fexofenadine
Levocetirizine
এসব ওষুধ চুলকানিজনিত অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে, তবে এগুলো দাদের মূল চিকিৎসা নয়।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url